২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ব্যবস্থায় একাধিক মৌলিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো শিল্প ও সেবা খাতের পাশাপাশি সাধারণ করদাতাদের ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।
ধারা ৩১: অগ্রিম কর ও রেয়াত
শিল্প খাতে অগ্রিম কর হার কমিয়ে ৩% থেকে ২% করা হয়েছে, যা ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। অপরদিকে, অন্যান্য খাতে এই হার ৫% থেকে বাড়িয়ে ৭.৫% নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজনের অনধিক ৫০% পর্যন্ত অতিরিক্ত মূসক আরোপযোগ্য হবে।
এছাড়াও, পূর্বের ৪ কর মেয়াদের রেয়াত এখন ৬ কর মেয়াদে সম্প্রসারিত হয়েছে, যা রপ্তানিমুখী ও আমদানি-নির্ভর খাতকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
ধারা ৪৬: সেবা ও আমদানি খাতে রেয়াত ও স্পষ্টীকরণ
আমদানিকৃত পণ্যের রেয়াতের ক্ষেত্রে কর মেয়াদ ৪ থেকে ৬ মাসে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে মূসক ৪.৩-এর প্রযোজ্যতা ও ৭.৫% অতিরিক্ত মূল্যের ওপর আরোপিত মূসক বাতিল নিয়ে চলমান বিবেদ হ্রাস করতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
ধারা ৪৭ ও ৫০: রেয়াত সমন্বয় ও সময় বৃদ্ধি
ধারা ৪৭ঃ
আংশিক রেয়াত ব্যবস্থাকে অধিকতর সহজ করতে সম্পূর্ণ বেয়াদ গ্রহণ ও কর মেয়াদ শেষে বৃদ্ধি কারী সমন্বয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ধারা ৫০ঃ
হ্রাসকারী সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা ৩ কর মেয়াদ থেকে বাড়িয়ে ৬ কর মেয়াদ করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের সময় ও রেয়াত পরিকল্পনায় স্বস্তি দেবে।
ধারা ৬৪: দাখিলপত্র সময়সীমা
ব্যাংক, বীমা ও শুন্য দাখিলপত্র দাখিলের সময়সীমা কর মেয়াদ শেষে ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ২০ দিন করা হয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও যথাসময়ে তথ্য দাখিল নিশ্চিত করতে আরও স্বচ্ছতা দরকার।
ধারা ৮৩ ও ৮৫: কর্মকর্তার ক্ষমতা ও জারিমানা হ্রাস
ধারা ৮৩ঃ এই ধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো — সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে লিখিত আদেশক্রমে নির্দিষ্ট এলাকায় পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ, বিক্রয় যাচাইসহ অন্যান্য কার্য সম্পাদনের ক্ষমতা প্রদান।
ধারা ৮৫ঃ এছাড়া, কিছু নির্ধারিত জারিমানাও হ্রাস করা হয়েছে:
-
দাখিলপত্র দাখিলে দেরির জন্য ৫,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২,০০০ টাকা।
-
অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবা বা পণ্যের দলিল সংরক্ষণে অনিয়মে জরিমানা ১ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫,০০০ টাকা করা হয়েছে।
-
অতিরিক্ত রেয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে জারিমানা এখন অন্তত ৩০% এবং সর্বোচ্চ ৫০% নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধারা ১০৬ ও ১০৭: বকেয়া কর ও রেকর্ড সংরক্ষণ
বকেয়া কর পরিশোধে কিস্তির মেয়াদ ১২ মাস থেকে বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে।
রেকর্ড সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ERP ও ভ্যাট সফটওয়্যারের মাধ্যমে সার্ভারে সংরক্ষণ অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে, যা ডিজিটাল কর প্রশাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রথম তফসিল: বেতন ও সেবা
এই বাজেটে কর্মচারীর বেতন ও ব্যবসায়িক পরিচালকদের সম্মানীকে “সেবা” হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে স্পষ্টীকরণ আনা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের জন্য অতিরিক্ত কর দায় সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
