মামলার পটভূমি
জি-মার্ট সুপার মার্কেট লিঃ – একটি জনপ্রিয় সুপার মার্কেট, যা ঢাকার মিরপুর এলাকায় অবস্থিত। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট শাহ আলী সার্কেল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি এবং ভ্যাট সম্পর্কিত গরমিল নিয়ে একটি মামলা দায়ের করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায় যে, তারা যথাযথভাবে ২% হারে ভ্যাট আদায় করে এবং ভ্যাট-১৯ (মাসিক দাখিলপত্র) মাধ্যমে তা সরকারী কোষাগারে জমা করেছে। তবে, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট শাহ আলী সার্কেল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি ধরার জন্য অভিযোগ তোলেন।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস থেকে কারণ দর্শাও নোটিশ জারি করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রীট দায়ের করে।
হাইকোর্টের আদেশ:
মাননীয় হাইকোর্টের রীট আবেদন সম্পর্কে আদেশ ছিল:
“Pending hearing of the rule, let operation of the impugned notice so far relates to section 37 of Value Added Tax Act, 1991 as envisaged in paragraph 10 of the said notice be stayed for a period of 2 (two) months from date. The proceedings under section 55 of VAT Act will proceed as usual.”
এই আদেশের পর, মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫৫ অনুযায়ী, ৩৪,১৪,৩০৯ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে বলে দাবীকৃত দাবী চূড়ান্ত করা হয় এবং ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অর্থ জমা দেয়ার জন্য আদেশ প্রদান করা হয়।
আপীলাত ট্রাইব্যুনালের রায়:
আপীলকারীর পক্ষে আপীল দাখিল হওয়ার পর, আপীলাত ট্রাইব্যুনাল নিম্নরূপ মন্তব্য করে:
“শাহ আলী সার্কেল কর্তৃপক্ষ আপীলকারী প্রতিষ্ঠানের মূসক আরোপযোগ্য পণ্য ও মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের মোট বিক্রয় (VATable sale ও non-VATable) এর উপর ২% হারে মূসক দাবী করায় আপীলকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩২,৩০,২০০ টাকা মূসক ফাঁকির আপত্তি করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, আপীলকারী প্রতিষ্ঠান সঠিক নিয়মে মূসক আদায় করেছে এবং সরকারী কোষাগারে তা জমা করেছে।”
তবে, শাহ আলী সার্কেল কর্তৃপক্ষ অক্টোবর ২০১০, নভেম্বর ২০১০, সেপ্টেম্বর ২০১১, অক্টোবর ২০১১, জানুয়ারি ২০১২ এই ০৬ মাসের ট্রেজারি জমার হিসাবে গরমিল পেয়েছে। সেই সাথে, এপ্রিল ২০১১, জুন ২০১১, আগস্ট ২০১১ এই ০৪ মাসের কোনো তথ্যও প্রদর্শন করা হয়নি। এর ভিত্তিতে, আপীলাত ট্রাইব্যুনাল এটি নিশ্চিত করে যে শাহ আলী সার্কেলের হিসাবপত্রে গরমিল রয়েছে এবং সেজন্য আপীলকারীর বিরুদ্ধে দাবীকৃত মূসক যথাযথ নয়।
এখানে, আপীলাত ট্রাইব্যুনাল মামলা আপীলকারীর পক্ষে নিস্পত্তি করেছে, কারণ যেহেতু মূসক সংক্রান্ত হিসাবপত্রে গরমিল ছিল, তাই ভ্যাট দাবীটি অবৈধ ছিল।
মামলা রেফারেন্স:
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীল ট্রাইব্যুনাল
নথি নং: সিইভিটি/কেইস(ভ্যাট)-৯২/২০১৫, তারিখ: ১৭/০৭/২০১৭ খ্রিঃ
অত্র ট্রাইব্যুনাল আপীলকারীর আপীল আবেদন এবং লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখতে পায় যে,
শাহআলী সার্কেল কর্তৃপক্ষ আপীলকারী প্রতিষ্ঠানের মূসক আরোপযোগ্য পণ্য ও মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের মোট বিক্রয় (VATable sale ও non-VATable) এর উপর ২% হারে মূসক দাবী করায় আপীলকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩২,৩০,২০০/- টাকা মূসক ফাঁকির আপত্তি হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ক্ষেত্রে আপীলকারী প্রতিষ্ঠান সঠিক নিয়মে মূসক আরোপযোগ্য পণ্যের বিপরীতে ক্রেতার নিকট থেকে ২% হারে মূসক আদায় করে মূসক-১৯ এর (মাসিক দাখিলপত্র) মাধ্যমে তা সরকারী কোষাগারে জমা করেন।
শাহআলী সার্কেল কর্তৃপক্ষ হিসাবে অক্টোবর-২০১০, নভেম্বর-২০১০, সেপ্টেম্বর-২০১১, অক্টোবর-২০১১, জানুয়ারী-২০১২ এই ০৬ মাসের ট্রেজারি জমার হিসাবে যে গরমিল রয়েছে, যা সার্কেল অফিসে দাখিলকৃত মূসক-১৯ যাচাই থেকে দেখা যায়।শাহআলী সার্কেল কর্তৃপক্ষ হিসাবে এপ্রিল-২০১১, জুন-২০১১ এবং আগস্ট-২০১১ এই ০৪ মাসের কোন তথ্যই উপস্থাপন করেননি। অর্থাৎ এই ০৪ মাসের বিষয়ে কোন আপত্তি নেই, যা প্রমাণ করে শাহআলী সার্কেলের হিসাবে গরমিল আছে। সেকারণে আলোচ্য ক্ষেত্রে আপীলকারী প্রতিষ্ঠানের উপর দাবীকৃত মূসক যথাযথ নয় বলে ট্রাইব্যুনাল মনে করে ।
Case Reference, Excise & VAT Appellate Tribunal, VAT Case, VAT Mamla, VAT Escape, VAT Faki, মূসক ফাঁকি, মূসক মামলা, মূসক ফাকি
