নথি নং-সিইভিটি/কেইস (ভ্যাট)-১০২/২০১৫; তারিখ: ১৩/০৯/২০১৭
বাদী: ইস্পাহানী ফুডস লিঃ, দেওয়ালিয়াবাড়ী, কোনাবাড়ী, গাজীপুর
মামলার বিবরণ:
ইস্পাহানী ফুডস লিঃ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যোগানদার, কুরিয়ার সার্ভিস ও সিকিউরিটি সার্ভিস খাতে উৎসে কর্তনকৃত ৩,৯১,৩৮৩.২০ টাকা উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করে। তবে রেয়াত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাট চালানপত্র (মূসক-১১) দাখিল করেনি। পরিবর্তে, সেবা প্রদানকারীর বিল এবং উৎসে কর্তন করে তা সরকারী কোষাগারে জমা প্রদানের প্রমাণস্বরূপ ট্রেজারি চালানের কপি দাখিল করে।
সার্কেল অফিস এই রেয়াত নাকচ করে। পরে প্রতিষ্ঠানটি বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে পুনঃবিবেচনার আবেদন করে। কিন্তু বিভাগীয় কর্মকর্তা আবেদনটি বিবেচনা না করে খারিজ করেন।
অতঃপর কমিশনার (আপীল), ঢাকা-২ এর বরাবরে আবেদন করলে আবেদনটি সময় দ্বারা বারিত উল্লেখ করে খারিজ করা হয়। অতঃপর প্রতিষ্ঠানটি আপীলাত ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করে। যথাযথ ভ্যাট চালানপত্র ছাড়া রেয়াত নেয়ায় আপীলাত ট্রাইব্যুনাল কমিশনার (আপীল), ঢাকা-২ এর আদেশ বহাল রাখে।
সিদ্ধান্ত:
ট্রাইব্যুনাল রায় প্রদান করে যে, যথাযথ ভ্যাট চালানপত্র দাখিল ছাড়া রেয়াত নেয়া যাবে না। কমিশনার (আপীল), ঢাকা-২ এর আদেশ বহাল থাকে।
বিঃ দ্রঃ:
এই মামলার মূল বিষয় হলো উৎসে কর্তন করা ভ্যাট ট্রেজারী চালানের কপি এবং সরবরাহ বিল এসব দলিলের ভিত্তিতে রেয়াত নেয়া যাবে না। রেয়াত নেয়ার মূল দলিল হলো আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে বিল- অব-এন্ট্রি এবং স্থানীয়ভাবে ক্রয়কৃত পণ্যের ক্ষেত্রে মূসক-১১ চালানপত্র। ধারা ৯(১) (ঞ) সদয় দ্রষ্টব্য। এখানে আরো কিছু বিষয় উল্লেখ করা দরকার যে, উৎসে ভ্যাট কর্তন এবং উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ দুটি আলাদা বিষয় । দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট কর্তন করতে হবে আর কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট কর্তন করতে হবে না তার জন্য নিয়ম-কানুন রয়েছে। আবার, কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে উপকরণ কর রেয়াত নেয়া যাবে আর কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে উপকরণ কর রেয়াত নেয়া যাবে না তারও নিয়ম-কানুন রয়েছে। কোনো ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট কর্তন করতে হবে কি-না এবং উপকরণ কর রেয়াত পাওয়া যাবে কি-না তা আলাদাভাবে প্রয়োগ করতে হবে। উৎসে কর্তন করলে রেয়াত নেয়া যাবে না বা রেয়াত নিলে উৎসে কর্তন করা যাবে না এমন কোনো বিষয় নেই। এগুলো কনফিউশন মাত্র।
নথি নং-সিইভিটি/কেইস (ভ্যাট)-০৯/২০১৫; 06/০৯/২০১৭
বাদী: মেসার্স মুন্নু জুটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ, পূর্ব পঞ্চাশ, ধামরাই, ঢাকা
মামলার বিবরণ:
মুন্নু জুটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, তারা মূল্য ঘোষণা প্রদান ছাড়াই অবৈধভাবে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করেছে। এই কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। কমিশনার রায় প্রদান করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি ২,৬২,১৮,৬০৭.১৩ টাকা পরিশোধ করবে এবং মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩৭(২) অনুসারে সমপরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
তবে, কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধে আপীলাত ট্রাইব্যুনালে আপীল করা হলে নিম্নোক্ত রায় প্রদান করা হয়:
সিদ্ধান্ত:
১. অবৈধভাবে রেয়াত গ্রহণের কারণে ২,৬২,১৮,৬০৭.১৩ টাকা আদায়যোগ্য।
২. তবে ধারা ৩৭(২) অনুসারে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি বিধায় সমপরিমাণ অর্থদণ্ড বাতিল করা হয়।
৩. আপীলাত ট্রাইব্যুনাল ধারা ৩৭(১) অনুযায়ী পঁচিশ হাজার টাকা (২৫,০০০/-) অর্থদণ্ড আরোপ করে।
সংগৃহীত: সহজ ভাষায় নতুন ভ্যাট আইন, আলোচনা (ধারা – ৪৬)
